ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ , ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা ভারী বৃষ্টিতে রাজস্থলীতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি গভীর রাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে ইউএনও, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের খোঁজখবর ও শুকনা খাবার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৭-১০ ১৮:৪৬:০৭
টানা ভারী বৃষ্টিতে রাজস্থলীতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি গভীর রাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে ইউএনও, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের খোঁজখবর ও শুকনা খাবার বিতরণ টানা ভারী বৃষ্টিতে রাজস্থলীতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি গভীর রাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে ইউএনও, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের খোঁজখবর ও শুকনা খাবার বিতরণ
রাজস্থলী (রাঙামাটি) প্রতিনিধি: আইয়ুব চৌধুরী টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। গত পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ঘিলাইছড়ি, গাইন্দ্যা ও বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা চরম আকার ধারণ করেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝুঁকির বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার পরও অনেক পরিবার এখনো পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার রাতে রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইউছুফ হাসান বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং অবিরাম বৃষ্টি ও সম্ভাব্য পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং ও প্রচারণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে ইউএনও বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শফিপুর এলাকার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মাতব্বর ঘোনা এলাকায় একটি নিরাপদ ঘরে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। তিনি উপস্থিত আশ্রয়প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফিরে না যান এবং নিরাপদ আশ্রয়েই অবস্থান করেন। এ সময় ইউএনওর উদ্যোগে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি আগামীকাল থেকে নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের সহকারী মো. গোলফান, বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব চৌধুরী, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য-সদস্যাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস দল মাঠপর্যায়ে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউছুফ হাসান জানান, টানা ভারী বর্ষণে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি এড়াতে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে মোট ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩৯ জন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানরত অন্য বাসিন্দাদেরও দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, "জীবনের নিরাপত্তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান না করেন। প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকুন।" স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি ও উদ্ধার-প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ